আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল লড়াই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ৩০ লক্ষাধিক ফলোয়ারসমৃদ্ধ অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অপসারণ (রিমুভ) করেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) আসিফ মাহমুদ নিজেই অন্য একটি আইডির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে সংঘবদ্ধভাবে রিপোর্ট এবং স্ট্রাইক দেওয়ার কারণে তার ভেরিফাইড পেজটি উধাও হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে লিংক শেয়ার করে পরিকল্পিতভাবে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ওসমান হাদি ইস্যুতে তিনটি ভিডিওতেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ স্ট্রাইক দেয়, যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে পেজটি বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ওসমান হাদি হত্যা ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত রয়েছে। ২১ ডিসেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি জানিয়েছিলেন যে হাদির হত্যাকারী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এই অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও খোদা বখসকে আলটিমেটাম, ইশরাক হোসেনের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ ত্যাগের ঘটনাগুলো দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন ভাষা আন্দোলন শুরু হয়, তখন কণ্ঠরোধ করা হতো রাজপথে লাঠিচার্জ আর বুলেটের মাধ্যমে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালির জয়জয়কার রুখতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সংবাদপত্র ও প্রচারমাধ্যমে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হতো যাতে মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যায়।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও রেডিও-টেলিভিশনের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে কণ্ঠরোধের ধরন বদলেছে। এখন বিরোধী মত বা নির্দিষ্ট কোনো তথ্যকে ধামাচাপা দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘রিপোর্ট যুদ্ধ’ বা ‘সাইবার অ্যাটাক’ একটি প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসিফ মাহমুদের পেজ রিমুভ হওয়াকে অনেক বিশ্লেষক স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
২০২৫ সালের শেষভাগে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ওসমান হাদি’ ইস্যুটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর ইশরাক হোসেনের ঘোষণা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনের মাধ্যমে বোঝা যায়, জনমানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় আসিফ মাহমুদের মতো প্রভাবশালী নেতার সামাজিক মাধ্যম থেকে হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সালে যে লড়াই ছিল লিফলেটে আর মিছিলে, ২০২৫ সালে সেই লড়াই এসে ঠেকেছে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই ডিজিটাল লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: ১. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত ফেসবুক বার্তা। ২. পুলিশ সদর দপ্তর ও অতিরিক্ত আইজিপির সংবাদ সম্মেলন প্রেস নোট। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ ও ডিজিটাল মিডিয়া মনিটরিং সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |